বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া গত বুধবার সর্বশেষ প্রান্তিকের আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কোম্পানির জানুয়ারি প্রান্তিকের (নভেম্বর-জানুয়ারি) আয় বাজার বিশ্লেষকদের সব প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপের অভাবনীয় চাহিদাকে পুঁজি করে কোম্পানিটি রেকর্ড মুনাফা করলেও সন্তুষ্ট হতে পারছে না ওয়াল স্ট্রিট। বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানিটির আয়ের পাহাড় যেভাবে বড় হচ্ছে, সেই তুলনায় শেয়ারহোল্ডারদের সরাসরি নগদ লভ্যাংশ দেয়ার ক্ষেত্রে এনভিডিয়ার অনীহা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি করেছে।
গত ২৫ জানুয়ারি শেষ হওয়া ২০২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে এনভিডিয়া ৬ হাজার ৮১৩ কোটি ডলার আয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এ আয় আগের প্রান্তিকের তুলনায় ২০ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বেশি।
এদিকে চলতি বছর কোম্পানিটির হাতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল নগদ অর্থ জমা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা বিনিয়োগকারীদের ফেরত দেয়া হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।
সুইশ ব্যাংক ইউবিএসের বিশ্লেষক টিম আরকুরি এনভিডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান, ভালো ফলাফল সত্ত্বেও শেয়ারদর আশানুরূপ না বাড়ার প্রেক্ষাপটে শেয়ারহোল্ডারদের এ নগদ অর্থ থেকে কিছু ফেরত দেয়ার (লভ্যাংশ বা শেয়ার বাইব্যাক) পরিকল্পনা আছে কিনা।
এর জবাবে এনভিডিয়ার প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) কোলেট ক্রেস জানান, কোম্পানি এ মুহূর্তে শেয়ারহোল্ডারদের নগদ অর্থ দেয়ার চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই ইকোসিস্টেম’-এ বিনিয়োগ অব্যাহত রাখাটাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রাপ্ত মুনাফা পুনরায় এআই খাতের উন্নয়নেই ব্যয় করতে চায় চিপ জায়ান্টটি।
পাশাপাশি এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং কম্পিউটিং জগতের এক আমূল পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এআই মডেলের মাধ্যমে উৎপাদিত আউটপুটই হবে ভবিষ্যৎ কম্পিউটিংয়ের ভিত্তি। এ ধারাকে সমর্থন জোগাতে এনভিডিয়া আরো বড় পরিসরে অবকাঠামো নির্মাণ অব্যাহত রাখবে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘কম্পিউটিংয়ের এ নতুন পদ্ধতি আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।’
চিপ সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ দূর করতে এনভিডিয়া জানিয়েছে, কোম্পানির চুক্তিবদ্ধ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি থেকে আগামী কয়েক প্রান্তিকের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা ও চিপের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এ ঘাটতির কিছুটা প্রভাব তাদের গেমিং ব্যবসায় পড়তে পারে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠানটি চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এটি বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশিত ৭ হাজার ২৬০ কোটি ডলারের চেয়ে বেশি।
এনভিডিয়ার শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠান মাহোনি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী (সিইও) কেন মাহোনি এ ফলাফলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘এনভিডিয়া বরাবরের মতোই প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল দেখিয়েছে।’